সরাইলের মলাইশে সম্প্রীতির আবহে বিজয় দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন,
সরাইলের মলাইশে সম্প্রীতির আবহে বিজয় দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন,
-
আপলোড সময় :
২২-১০-২০২৬ ১২:৩৫:১৬ অপরাহ্ন
-
আপডেট সময় :
২২-১০-২০২৬ ১২:৩৫:১৬ অপরাহ্ন
সরাইলের মলাইশে সম্প্রীতির আবহে বিজয় দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন,
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটলো প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ৯নং শাহজাদাপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মলাইশ গ্রামে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং ভক্তদের অশ্রুসিক্ত নয়নে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মলাইশ নদীর ঘাটে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামে। বিসর্জনের আগে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর চরণে শেষ অঞ্জলি নিবেদন ও সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। নতুন আলোকচিত্রে দেখা যায়, আলোকোজ্জ্বল মণ্ডপে দেবী দুর্গার পূর্ণাঙ্গ রূপের সামনে ভক্তরা পরম ভক্তিতে দণ্ডবৎ প্রণাম করে মায়ের আশীর্বাদ ভিক্ষা করছেন।
এরপর উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, ঢাক-ঢোল ও কাঁসার বাদ্যে মুখরিত পরিবেশে দেবীকে নদীর ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যলোকে (বাবার বাড়ি) আগমন করেছিলেন এবং বিজয়া দশমীতে নৌকায় চড়ে কৈলাসে (স্বামীর বাড়ি) ফিরে গেলেন। মায়ের এই বিদায়লগ্নে মণ্ডপে মণ্ডপে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঢাকের আওয়াজে আনন্দের সুর থাকলেও ভক্তদের চোখে ছিল বিদায়ের জল।
উৎসবে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে দেওয়ান বাড়ি শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু উদয় রঞ্জন দাস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আজ বিজয় দশমী, আমাদের আনন্দের দিনটি শেষ হতে চলেছে। মা দুর্গা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৪ দিন আমাদের মাঝে ছিলেন, আজ ৫ম দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে কৈলাসে চলে যাচ্ছেন। একটু পরেই মা আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবেন। আবার একটি বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। বেঁচে থাকলে আগামী বছর আবারও মায়ের দর্শন পাবো, যদি মা সেই ভাগ্য দেন।
পূজার প্রধান সমন্বয়ক ও দেওয়ান বাড়ি উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক (সাবেক মেম্বার) বাবু সুকুমার দাস সবাইকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "আমরা ঢাক-ঢোল ও নাচ-গানের মাধ্যমে আনন্দের সাথে মায়ের বিদায় অনুষ্ঠান পালন করছি। মায়ের কাছে আমাদের একটাই প্রার্থনা, মা যেন পৃথিবীর সমস্ত অশুভ শক্তি নাশ করে আগামী বছর আবারও আমাদের মাঝে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে ফিরে আসে।
মলাইশ গ্রামের ৮টি মন্দিরের প্রতিমা একে একে নদীর জলে বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে শেষ হয় পাঁচ দিনব্যাপী এই শারদীয় উৎসব।
রাতের আলো-আঁধারিতে নদীর জলে প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য দেখার জন্য নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা এলাকায় এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সরাইল থানার সহকারি এসআই সুলতান আহমদ এর সহযোগিতায় শান্তি পূর্ণ, ভাবে নিজ দায়িত্বে সত্যতা সাথে পালন ও পূজা কমিটির নিজস্ব ভলান্টিয়ারদের সাথে নিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। ফলে কোনো রকম অঘটন ছাড়াই অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে মলাইশ গ্রামের এবারের দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে।
পরিশেষে বিভিন্ন ধর্মীয় গান গেয়ে প্রতি মা বিসর্জ্জন করে বাড়িতে এসে ভক্তরা নাচ গান করে প্রসাদ গ্রহণ করে। পূজোর তিথি অনুসারে সমাপ্তি হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : মো: শাহাদাত হোসাইন
কমেন্ট বক্স