রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা জুড়ে শীতের আগাম বার্তা নিয়ে এসেছে খেজুরের রস দিয়ে গুড় বানানোর কৃষকের উৎসব মাস। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গাছিদের ব্যস্ততা এখন চোখে পড়ার মতো। হেমন্তের শেষ থেকেই তারা খেজুর গাছ কাটা ও পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন।
দুর্গাপুরের দাওকান্দি, পানানগর, ঝালুকা ও জয়নগর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ভোর ৪টা থেকেই গাছিরা কোমরে দড়ি বেঁধে, কাঁধে মাটির কলস নিয়ে গাছে উঠছেন। সন্ধ্যায় বেঁধে রাখা হাঁড়ি ভরে উঠছে সাদা, মিষ্টি রসে।
স্থানীয় প্রবীণ গাছি মো. কালাম (৬০) বলেন, এইবার ৮০টা গাছ কাটিছি। কার্তিক মাসের শেষে গাছ কাটলে রস বেশি মিষ্টি হয়। একটা গাছ থেকে ২ থেকে ৪ লিটার রস পাই। এই রস দিয়েই খাঁটি পাটালি আর ঝোলা গুড় বানাবো। দুর্গাপুরের গুড়ের সুনাম তো সব জায়গায় আছে।
জানা গেছে, দুর্গাপুরের খেজুরের পাটালি গুড়ের চাহিদা রাজশাহী শহর ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম পর্যন্ত। শীতের সময় এই গুড় দিয়ে তৈরি পিঠা-পুলি বাঙালির ঐতিহ্য।
তবে গাছিরা জানান, আগের তুলনায় খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। অনেকেই গাছ কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে এই শত বছরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, খেজুরের কাঁচা রস পানের সময় অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বাদুড় যাতে রসে মুখ না দিতে পারে, সেজন্য হাঁড়িতে জাল বা ঢাকনা ব্যবহার করতে হবে। ফুটিয়ে পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
শীত যত বাড়বে, দুর্গাপুরের মাঠে-ঘাটে খেজুরের রস ও গুড়ের গন্ধ ততই ছড়িয়ে পড়বে। সেই মিষ্টি স্বাদের অপেক্ষায় এখন পুরো দুর্গাপুর বাসী।
নিউজটি আপডেট করেছেন : মো: শাহাদাত হোসাইন
