ভিটেমাটি বেচে, সুদে টাকা এনে কিংবা মা-বাবার শেষ সম্বলটুকু তুলে দিয়ে যারা এক বুক আশা নিয়ে পা বাড়ান মরুভূমির দেশে—তাদের জীবনগল্প কেবলি রক্তের দামে কেনা এক একটি রেমিট্যান্সের গল্প। অবৈধ পথের বিভীষিকা, দালালের প্রতারণা আর প্রবাসে গিয়ে অমানুষিক খাটুনির শিকার হাজারো নিঃস্ব যুবকের বুকে জমানো কান্নার মাঝে এবার নতুন এক আশার আলো আর শঙ্কার বাস্তবতায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুর আনসার একাডেমীতে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত আনসার ভিডিপি একাডেমিতে আনসার সদস্যদের কর্মসংস্থান কেন্দ্র ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এক বিশাল প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন,বাংলাদেশ আর কখনোই অবৈধ পন্থায় বিদেশ যাওয়ার মতো আত্মঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেবে না। যারা দালালের মাধ্যমে প্রতারণা করে,তাদের পরিণতি অত্যন্ত কঠিন হয়।কিন্তু আজ প্রশ্ন উঠছে যে দেশে প্রতিটি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, তাদের জীবন কেন বারবার দালালের পাঁকে আটকে ধ্বংস হয়ে যায়? কালিয়াকৈরসহ দেশের হাজারো গ্রামের মেঠোপথে হেঁটে গেলে শোনা যায় নিঃস্ব পরিবারের আহাজারি। অনেক পিতা-মাতা আজ নিঃস্ব, কত শত যুবক ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত। মন্ত্রী যখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলছেন, তখন গ্রামের সেইসব প্রবাসীদের চোখের জল যেন বলতে চায়-প্রশিক্ষণ তো পাব, কিন্তু প্রতারণামুক্ত জীবনের নিশ্চয়তা কে দেবে?
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রতিটি উপজেলা থেকে শ্রমিকদের সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখার যে আশ্বাস দিয়েছেন, তা যদি বাস্তবে রূপ না নেয়, তবে ১ কোটি দক্ষ কর্মীর এই মহাপরিকল্পনা আবার সেই হাজার হাজার অবহেলিত জীবনের বোবা কান্নায় পরিণত হতে পারে। মন্ত্রী অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং একাডেমির গার্মেন্টস কারখানা, প্যান্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : মো: শাহাদাত হোসাইন

শাকিল হোসেন