ধামরাইয়ে এসআই কাওছারের নেতৃত্বে ৪ ডাকাত গ্রেফতার, বিপুল মালামাল উদ্ধার

ধামরাইয়ে এসআই কাওছারের নেতৃত্বে ৪ ডাকাত গ্রেফতার, বিপুল মালামাল উদ্ধার

আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০১:৫৯:১৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০১:৫৯:১৬ অপরাহ্ন
ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশার গ্যারেজে সিসি ক্যামেরার ডিভিআর বক্সসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওছার সুলতানের দূরদর্শিতা ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার প্রায় দেড় মাসের মাথায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত তিনটি তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ছয় চাকার পুরাতন পিকআপ ভ্যান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ধামরাই থানাধীন সুতিপাডাঁ ইউনিয়নের ছোট কালামপুর এলাকায় বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন অটো রিকশার গ্যারেজে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কালো মুখোশ পরা ৮-৯ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল গ্যারেজের পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা বিল্লাল হোসেনের বড় ভাই মুজিবর রহমানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে, হাত-পা বেঁধে বিছানায় ফেলে রাখে এবং ঘাড়ের ওপর রামদা ধরে প্রাণে মারার ভয় দেখায়।

এরপর ডাকাত দল গ্যারেজ থেকে ৪টি ইজি বাইক, বিভিন্ন ইজি বাইক থেকে খুলে নেওয়া ২৭টি ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরার ডিভিআর মেশিন এবং নগদ টাকাসহ সর্বমোট ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে একটি পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা রুজুর পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এবং সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় মামলার তদন্তভার পান ধামরাই থানার এসআই এস এম কাওছার সুলতান। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে এসআই কাওছার ঘটনার পর থেকেই ডাকাত দলটির সন্ধানে মাঠে নামেন। কোনো প্রথাগত সূত্র না থাকায় তিনি আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের জাল বিছাতে শুরু করেন।

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গত ২৩ অক্টোবর ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে এসআই কাওছারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন কদমতলী খালপাড় এলাকায় প্রথম অভিযান চালায়। সেখান থেকে চক্রের মূল হোতা সোহেল (৩০) ও ইমাম হোসেন শাওনকে (৩২) গ্রেফতার করতে সক্ষম হন তিনি। গ্রেফতারের পরপরই এসআই কাওছার সুলতান আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটেই কদমতলী খালপাড় এলাকা থেকে লুণ্ঠিত ৩টি তিন চাকার অটো রিকশা (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা) উদ্ধার করেন।

অভিযানের এখানেই সমাপ্তি ঘটেনি। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে এসআই কাওছার ওই দিনই সকাল সাড়ে ৯টায় সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরেক সদস্য মোঃ সবুজকে (২৯) তার বর্তমান ঠিকানা থেকে গ্রেফতার করেন। এরপর তথ্য-প্রযুক্তির নিখুঁত ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সোনারগাঁ থানার কাচপুর খাসপাড়া এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম সদস্য হাবিবুর রহমান ওরফে রনক ওরফে রনিকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে এসআই কাওছারের জেরার মুখে আসামি রনি ডাকাতির ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করে এবং তার দেখানো তথ্য অনুযায়ী দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত এবং পলাতক আসামিদের বহনকারী ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-৬১৫৮ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি ৬ চাকার পুরাতন পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়।

ধামরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, এসআই এস এম কাওছার সুলতানের সাহসিকতা ও সুপরিকল্পিত অভিযানের ফলেই এই দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্রকে আইনের আওতায় আনা এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 এস আই এস এম কাওছার সুলতান ধামরাই থানায় যোগদানের পর থেকেই নিজের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। একের পর এক জটিল ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন করে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সম্পাদকীয় :

চেয়ারম্যান: মোঃ শাহাদাত হোসাইন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর: নাদিম মাহমুদ খান
হেড অব নিউজ: ইমাম হোসেন ( রনি)

অফিস :

হাউস #১৪, রোড #১৩, সেক্টর #১০, উত্তরা, ঢাকা–১২৩০, বাংলাদেশ।

Design & Development BY Nadim Technology